১. প্রজাতন্ত্রের আর দশজন কর্মচারীর কাজের পরিধি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মত নয়। অন্য ডিপার্টমেন্ট গুলোতে নিদিষ্ট কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে চেয়ারে বসা মাত্রই কাজ শুরু করে দেয়া যায়। কিন্তু দেশ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও নতুন কোন শ্রেনি কক্ষে পাঠদানে ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। একটি সফল পাঠদানের পূর্বশর্ত হল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুদৃঢ় আন্তঃযোগাযোগ, পরস্পরিক নির্ভরযোগ্যতা। আর এই জন্য প্রজাতন্ত্রের অন্য সকল ডিপার্টমেন্টের মত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সারা বছর কর্মস্থল থেকে বদলী সুবিধা ভোগ করতে পারেন না ।২. প্রজাতন্ত্রের অন্য সকল ডিপার্টমেন্টের কর্মচারীর যখন বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া অন্য সময় তাঁদের নিয়মিত কাজগুলো নির্ধারিত সময়েই মানে ৯ থেকে ৫ টা বা তাঁদের জন্য নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করেন তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা হোম ভিজিট, শিশু জরিপ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা, উঠোন বৈঠক এর মত নিয়মিত কাজ গুলো করতে হয় শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে কিংবা পরে।৩. একজন শিক্ষকের প্রধান কাজ হল শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করা। স্বাভাবিক নিয়মে এই পাঠদানের জন্য দরকার একটি পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের এই পরিকল্পনা পাঠদান ফাঁকিদিয়ে নয়, প্রনয়ন করতে হয় পাঠদানের পূর্বে মানে বাড়িতে বসে অথবা বিদ্যালয় ছুটির পরে বিদ্যালয়ে বসে।৪. সম্প্রতি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষকে মাল্টিমিডিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। আর এই জন্য শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরী করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ইন্টারনেট সুবিধার বাহিরে তাই ডিজিটাল কন্টেন্টের জন্য বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ,কন্টেন্টতৈরী কিংবা শিক্ষক বাতায়নে আপলোডের কাজ করতে হয় নিজেদের বাসস্থলে বসেই।৫. জাতীয় দিবস গুলোতে বেশিরভাগ ডিপার্টমেন্ট শুধু পতাকা উত্তোলন করে পালন করেন তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা স্ব স্ব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিবসটি পালন করেন।৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে কাজের ব্যপ্তি মাধ্যমিক কিম্বা মহা বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়েকর্মরত শিক্ষকদের সাথেও মেলানো যাবেনা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে বিভিন্ন রকমের ভুমিকা পালন করতে হয়। কখনো ক্রীড়া শিক্ষককের ভূমিকা, কখনো শরীর চর্চা শিক্ষককের ভূমিকা, কখনো অভিবাবকের ভূমিকা, কখনো বিচারকের ভূমিকা, কখনো চিকিৎসকের ভূমিকা, কখনো জ্যান্ত খেলনারভূমিকাও পালন করতে হয়।১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সময়সূচী ছিল সকাল ১০:৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। ১৯৮৯ সালের ১৪ আগষ্ট বিদ্যালয়ের এই সময়সূচী পরিবর্তন করে ১০ থেকে ৪ টার পরিবর্তে ৪:১৫ পর্যন্ত এবং ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসের ২য় দিন থেকে বিদ্যালয়ের সময়সূচীর পরিবর্তন গঠিয়ে ১০ থেকে সাড়ে ৯ টায় নিয়ে আসা হয়। ২০১৪ সালে ছুটির তালিকায় এই সময় কে দুইপাশেই বাড়িয়ে ৯ থেকে সাড়ে ৪ টা করা হয়েছে। সরকার যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারন দেখিয়ে প্রজাতন্ত্রের প্রায় সকল বিভাগে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি ও অফিস টাইম ৯ টা ৫ টা করার যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন সেই সিদ্ধান্তটি এসেছিল সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রজাতন্ত্রের অন্য সকল বিভাগের কর্মচারীদের মত নয়। তাঁদের জন্য এই সময়সূচী কতটা মানবিক কৌতুহলী মন সেটাই জানতে চায় ।
0 মন্তব্যসমূহ