প্রাথমিকে মোবাইলে উপবৃত্তি নিয়ে জটিলতা

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা উঠে গেলে কিভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে তা নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। এর মধ্যেই প্রাথমিকে উপবৃত্তি নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। রমজান ও ঈদের ছুটি গত ৭ জুন থেকে শুরু হলেও ওই দিনই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের চিঠি যায় স্কুলে স্কুলে। ১২ জুনের মধ্যে সব তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাতে।
ফলে শিক্ষকরা এ কাজ করার জন্য মাত্র চার কার্যদিবস সময় পেয়েছেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও বেশির ভাগ স্কুলই গতকাল সোমবার পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে পারেনি। অথচ অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়ায় জুনের মধ্যেই এ বৃত্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হতো। সেই হিসাবে ৭৮ লাখ শিশু উপবৃত্তি পেত। কিন্তু চলতি অর্থবছর থেকে শতভাগ শিশুকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়। এক কোটি ৩০ লাখ শিশু এবার উপবৃত্তি পাবে। কিন্তু নতুন এ সিদ্ধান্ত পাস হতে ও নীতিমালা তৈরি করতেই বছর শেষ হওয়ার পথে। ফলে গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত উপবৃত্তি বকেয়া রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভুরভুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ হাসান বলেন, ‘আমার স্কুলে ২৩০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আমি ৯৫ জন অভিভাবকের মোবাইল নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য জোগাড় করতে পেরেছি। কারণ সামনে ঈদ, স্কুল বন্ধ। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারায় অনেকের মোবাইল ফোনের সিমকার্ডও বন্ধ হয়ে গেছে।’
জানা যায়, অর্থবছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে উপবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু স্বল্প সময়ে শিক্ষার্থীর ছবি, শিক্ষার্থী ও তার মায়ের যৌথ ছবি, অভিভাবকের, বিশেষ করে মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। গতকাল এ-সংক্রান্ত সভায় ৮৯টি উপজেলায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাকি ৩৯৭ উপজেলায় আগের পদ্ধতিতে হাতে হাতেই উপবৃত্তি দেওয়া হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ৮৯ উপজেলায়ও মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকর আলী বলেন, ‘আমরা এখনো সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর জোগাড় করতে পারিনি। ঈদের আগে অনেককে বাড়িতে না পাওয়ায় তা জোগাড় করা যাচ্ছে না। ফলে উপবৃত্তি নিয়ে খুবই সমস্যার মধ্যে পড়েছি।’
এসব বিষয়ে উপবৃত্তি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ইরতিজা আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘আগে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল সব শিশুকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়া হবে। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় আপাতত ৮৯টি উপজেলায় মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ