স্কেল বা বেতন গ্রেড...!




কপি,পেষ্ট
স্কেল বা বেতন গ্রেডের কথা না ভুলে আমার উপায় নেই। অনেক দিন ধরে এ বিষয়টি মনে খুব যন্ত্রণা সৃষ্টি করে চলেছে। জল্পনা-কল্পনা,হিসেব -নিকেশ আর ভালো লাগছে না।ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য, আলোচনা - সমালোচনা যত দেখি মন তত খারাপ হয়। এ নিয়ে ভেবে উচ্চ রক্তচাপের শিকার হচ্ছি। বুক ধড়ফড় করে। মনে হয় হার্টের রোগ হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিপেটা ভাইরাল হয়েছিল। ওসব দৃশ্য দেখে বহুদিন ঠিকমতো খেতে পারিনি। নির্ঘুম কেটে গেছে অনেক রাত। লজ্জায় রাস্তায় বের হইনি।পুলিশ শিক্ষকের গায়ে হাত তুলেছে এমন কথা দোকানপাটের লোকজন আমাকে দেখলেই উচ্চস্বরে বলাবলি করা শুরু করত। অপমানে মাথা তুলে তাকাইনি।ঘরে ফিরে দীর্ঘক্ষণ বোবা হয়ে বসে থেকেছি।ঘেমে জবুথবু হয়েছি। স্ত্রী-সন্তান জানতে চাইলে বলেছি শরীরটা কেমন জানি করে। আসল কথা বলিনি। সে কথা মনে হলে এখনো বুকটা চিন চিন করে।থাক ওসব কথা।
আমি আর গ্রেড নিয়ে ভাবতে পারবোনা। কারণ, ভাবলে আমার হার্টস্ট্রোক হবে। তারচেয়ে যা পাই তা নিয়েই বেঁচে থাকা এখন বেশি প্রয়োজন। ধরে নিয়েছি এটাই আমার নিয়তি। এটাই আমার জন্য বাস্তব সত্য। আমি এখানে জব পেয়েছি। কপালে এখানেই রুটির ব্যবস্থা লেখা ছিলো।
বয়স চলে গেছে। চল্লিশ পেরিয়ে একচল্লিশ। এখনো জব পোর্টালে চোখ রাখি। নামের শেষে যদি অফিসার শব্দটার সুযোগ এসে যেতো। হয়তো তা আর হবেনা।আবার হতেও পারে।যেখানে বয়সের কোনো সীমা নেই,সেখানে মাঝেমধ্যে খুঁজে বেড়াই আমার নতুন দিগন্ত। এটা একটা রাজ্য জয়ের মতোই। সব রাজাই যুদ্ধ করে।হারানো রাজ্য কি আর সবাই ফিরে পায়?
তবু আশায় আশায় থাকে সবাই।
আমি আমার নতুন দিগন্ত খুঁজে বেড়াই। জব পোর্টালে জবপ্রোফাইল দেখে একদম ভুলে যাই বেতন গ্রেডের কথা। আমার মর্যাদার কথা। কখন যে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাই জানিনা। রাত পোহালে তড়িঘড়ি করে কাজ সারি।স্কুলে যাই।কী সুন্দর কচি মুখের সমাহার!আমার ডানে-বামে চাঁদ উঠে। শত শত চাঁদ। আমি চাঁদের হাটে মেতে উঠি। চাঁদ! আমার চাঁদদের মিষ্টি হাসিতে গ্রেডের কথা তখন মনেই থাকেনা।মাঝেমধ্যে কলিগগণ আলাপকালে এড়িয়ে যাই। ব্যাথা- বেদনা আর ভালো লাগেনা।
আমি আমার জীবন থেকে গ্রেড ও প্রমোশনকে জঙ্গল বাড়িতে কবর দিয়েছি। এখন যা হবার হবে।না হলে না হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ