কপি পেস্ট, শহীদ উল্লাহ স্যার -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ঃ-
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সকল ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ও বিদেশে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছেন এবং সেজন্য বাঙালি জাতি হিসেবে আমরাও গর্ববোধ করি । অন্যান্য বিভাগের মত প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষার্থীর ভর্তি, নিয়মিত উপস্থিতি, ঝরে পড়া হ্রাস, শিক্ষার গুণগত মান, অবকাঠামো ও পরিবেশ-উন্নয়ন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।উল্লেখিত বিষয়ে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার অনেক ক্ষেত্রে আজও অনুরূপ উন্নয়ন হয়নি । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রধান শিক্ষক পদ দ্বিতীয় শ্রেণীর ঘোষণা করা সত্ত্বেও আজও প্রধান শিক্ষকগণ দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কেল (দশম গ্রেড ) ও অন্যান্য সুবিধা পায়নি । দীর্ঘ ছয় বছরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন পেশ,সংবাদ সম্মেলন ও কিছু কর্মসূচি পালন করেছেন ।কোন কিছুই তাদের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হয়নি । সহকারী শিক্ষকগণ তাদের বেতন গ্রেড উন্নীত করণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে টাইম স্কেল, উন্নীত স্কেলের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ, তিন বছর পূর্তিতে শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের সাথে যুগপৎভাবে দাবি জানিয়ে আসছে ।বিষয়গুলোর আশু সমাধান প্রয়োজন।
অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় হতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (AUEO) পদ আপগ্রেডেশনের বিষয়ে বারবার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা সত্ত্বেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিগত সময়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ আপগ্রেডেশন এর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ও অধিদপ্তরের জোরালো পদক্ষেপ ছিল এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশও ছিল।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গণের পদ কাঙ্খিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তার পদ নাম যথাক্রমে উপ-পরিচালক ও পরিচালক পদে উন্নীত এবং তাদের বেতন স্কেল যথাক্রমে পঞ্চম গ্রেড ও তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবি।
শিক্ষকগণ শিক্ষকতাতেই সীমাবদ্ধ। প্রধান শিক্ষক এর পর আর কোন পদোন্নতি নেই । নেই তাদের জীবনে কোন স্বপ্ন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণের শতকরা ৯০ ভাগেরই পদোন্নতির সুযোগ নেই । তারা সারা জীবন একই পদে চাকরি করে অবসরে যান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন মাঠ পর্যায়ে আরো অনেক পদ রয়েছে, যে সব পদের কোনো নিয়োগবিধি নেই । নেই পদোন্নতি বা সরাসরি নিয়োগের বিধিবিধান।
সরকার বিভিন্ন বিভাগের কাজের গতিশীলতা আনয়নের জন্য উপজেলা পর্যায়ে দপ্তর প্রধানদের গাড়ি দিচ্ছেন । উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ও জনবলের সংখ্যা সর্বাধিক । নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ তদারকি , একাডেমিক পরিদর্শন ও মনিটরিং ,স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এলাকার অভিভাবকগণের সাথে গণসংযোগ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা ইত্যাদি কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অনেক সময় ব্যস্ত থাকতে হয় । তাই তাদের গাড়ি প্রদান করা হলে এসব কাজ আরো গতিশীল হবে।
একটি দক্ষ গতিশীল ও উন্নত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তৈরীর লক্ষ্যে উল্লেখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক ।
সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব ।সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি )এর ১৭ (ক ) ধারায় উল্লেখ আছে - আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দানের জন্য এবং ১৭ (খ ) ধারায় সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সংগতি পূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন । যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে অন্য কোন বিভাগের সাথে তুলনা না করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনে এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় সাংগঠনিক কাঠামো , পদবি ও পদবিন্যাস, বেতন কাঠামো, নিয়োগ ও পদোন্নতি ইত্যাদি বিষয় ঢেলে সাজানো প্রয়োজন । ইতোপূর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী , সচিব ও মহাপরিচালকগণ যুগোপযোগী নিয়োগবিধি প্রণয়ন , অর্গানোগ্রাম তৈরি , শিক্ষক হতে মহাপরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতি , বেতন বৈষম্য নিরসন , প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠন ইত্যাদি বিষয়ে অনেক আশার বাণী শুনিয়েছেন।
দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা হতাশ এ কথা বলবো না । আমার মনে হয় সাবেক মন্ত্রী , প্রতিমন্ত্রী ,সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয়গণ হতাশা নিয়ে এখান থেকে বদলি হয়েছেন বা অবসরে গেছেন । কারণ তারা প্রাথমিক শিক্ষাকে যেভাবে ঢেলে সাজাতে চেয়ে ছিলেন তা পারেননি। তাদের স্থলে বর্তমানে যারা আছেন তারা সফল হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি । তাদের কাজকর্ম ই আমাদের সে আস্থা তৈরি করেছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী , সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন ।তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পিটিআই ব্যবস্থাপনাকে আরো গতিশীল ও ইন্সট্রাক্টগণের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিটি পিটিআই এ সহকারি সুপারিনটেনডেন্ট এর আরও একটি করে পদ সৃষ্টি হয়েছে । এ যেন অন্ধকার সুরঙ্গ পথে আলোর ঝিলিক । মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের এ মহতী উদ্যোগ আমাদের প্রত্যাশা আরো বাড়িয়েছে ।আমরা ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয়কে।
আমাদের প্রত্যাশা মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয় শিক্ষক হতে মহাপরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ রেখে একটি শিক্ষা বান্ধব নিয়োগ বিধি , সহকারী শিক্ষক হতে পরিচালক পর্যন্ত যৌক্তিকভাবে গ্রেড উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠনসহ শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালীকরণের যাবতীয় বিষয়াদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝাতে সক্ষম হবেন । উল্লেখিত বিষয়াদি বাস্তবায়নে সাথে জনপ্রশাসন , অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে । মাননীয় প্রতিমন্ত্রী , সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি আপনাদের প্রচেষ্টায় দু'একটি বিষয়ের সমাধান হলেও অন্যান্য বিষয়গুলো জনপ্রশাসন আইন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে যেতে পারে। তাই উল্লেখিত সবগুলো বিষয় একইসাথে বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে , করোনার বৈশ্বিক মহামারির সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের প্রায় ৪ লক্ষ শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবিক সহায়তার জন্য দরিদ্র মানুষের তালিকা প্রণয়নে সহযোগিতা প্রদান ,ত্রাণ বিতরণ, অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রেখে বাড়িতে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যালয়ের নানারকম উন্নয়ন কার্যক্রম করে যাচ্ছেন । এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন । আবার অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রাণঘাতী করোনা তাদের দমাতে পারেনি । এমতাবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে তারা আরও অনুপ্রাণিত হবেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ ও নির্দেশনার জন্য আমাদের সকলের প্রত্যাশিত বিষয়গুলোর তালিকা নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ
১.সহকারী শিক্ষক হতে মহাপরিচালক পর্যন্ত শতভাগ পদোন্নতির সুযোগ রেখে একটি যুগোপযোগী নিয়োগ বিধি প্রণয়ন।
২.প্রাথমিক শিক্ষার কাজের পরিধি ও ব্যাপকতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত অর্গানোগ্রাম তৈরি।
৩. শিক্ষকদের উন্নত স্কেলের উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণ।
৪. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে পরবর্তী টাইমস্কেল প্রদান।
৫. তিন বছর পূর্তিতে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি মঞ্জুর ও ভাতা প্রদান।
৬. সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড উন্নয়ন ও প্রধান শিক্ষক পদ দশম গ্রেডে উন্নীত করন।
৭. সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করন।
৮. উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদ ৬ষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত করণ। সিনিয়র উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে পদায়ন। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদের নাম পরিবর্তন করে সহকারী পরিচালক করা।
৯. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপ পরিচালকের পদের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে উপ-পরিচালক ও পরিচালক করা
এবং পদ দু'টি যথাক্রমে পঞ্চম ও তৃতীয় গ্রেডে নির্ধারন করা।
১০. প্রাথমিক শিক্ষায় যোগাযোগ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম বৃদ্ধি করনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার দের গাড়ি প্রদান করা।
১১. প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠন করা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। যেকোনো পরিস্থিতিতে উন্নয়নমূলক কাজের সিদ্ধান্ত নিতে কখনোই আপনি পিছপা হন না । দেশে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও আপনি দেড় কোটি শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীর পোশাক জুতা ও ব্যাগ ক্রয়ের জন্য কিড এলাউন্স দিয়েছেন । এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য আপনার সানুগ্রহ নির্দেশনা একান্ত ভাবে কামনা করছি।
এসব বিষয় নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে । কখনো কখনো ছোটখাটো কর্মসূচিও দিয়েছে । সংবাদ সম্মেলন করেছে। সম্প্রতি জুম মিটিং এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার একটি নির্দেশনায় থেমে যাবে সকল কর্মসূচি , এগিয়ে যাবে প্রাথমিক শিক্ষা । পূর্ণ হবে প্রাথমিক শিক্ষায় কর্মরত চার লক্ষ শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। আপনার সেই যুগান্তকারী নির্দেশনার অপেক্ষায় দেশের চার লক্ষ শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
বিনয়াবনত
মোঃ শহীদ উল্লাহ
সভাপতি
বাংলাদেশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার কল্যাণ সমিতি।

0 মন্তব্যসমূহ